[এই পর্বের আগের লেখাগুলো রয়েছে এখানে:
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link ]
[মূল লেখা: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]
..............পূর্বে প্রকাশিত লেখার ধারাবাহিকতায়
আল্লাহ্ কুর’আন সম্বন্ধে কি বলেন
কুর’আন সম্বন্ধে আল্লাহ্ আরো বলেন :
“(হে মানবকুল) অবশ্যই আমরা তোমাদের জন্য একটি কিতাব নাযিল করেছি যাতে তোমাদের জন্য রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা (যারা তা অনুসরণ করবে তাদের জন্য)। তোমরা কি তাহলে তা বুঝবে না?” (সূরা আম্বিয়া, ২১:১০)
এই আয়াত প্রথমে কুরাইশী আরবদের উদ্দেশ্যে ছিল, যদিও এর মর্মার্থ সাধারণভাবে সকল বিশ্বাসী বা সকল মানুষের বেলায় প্রযোজ্য [রাসূল (সা.) এর সময়ের পর থেকে]। এটা আরবদের জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ ছিল যে, কুর’আন তাদের ভাষায় নাযিল হয়েছিল। তারপর তাদের মধ্য থেকে যারা এর সাথে লেগে থাকবে, তাদের সেই সম্মান ও মর্যাদা সহকারে স্মরণ করা হবে যা আল্লাহ্ তাদের দান করেছেন। তাছাড়াও অবশ্য সকল বিশ্বাসী ও সকল মানবকুলকে এই আয়াত একথাই জানান দিচ্ছে যে, কারো মান-মর্যাদা ও বিজয় আসলে সত্যিকার বিশ্বাসীতে পরিণত হয়ে এই কুর’আনকে আঁকড়ে ধরা এবং জীবনে সেটাকে প্রয়োগ করার মাঝেই নিহিত। আল্লাহ্ বলেন :
“..সম্মান হচ্ছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের এবং বিশ্বাসীদের ; যদিও মুনাফিকরা তা জানে না।” (সূরা মুনাফিকুন, ৬৩:৮)
এই বাস্তবতা আরবদের ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে। কুর’আনকে অনুসরণ করার পূর্বে তারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত ছিল না অথবা পৃথিবীর সম্মানিত কোন জাতিও ছিল না। পৃথিবীকে দেওয়ার মত তাদের এমন কিছু ছিল না। কিন্তু কুর’আন লাভ করার পর তারা পৃথিবীর কাছে তা পৌঁছে দিয়েছে। সৈয়দ কুতুব যেমন বলেছেন: কুর’আনের বাণী ছিল পৃথিবীকে উপহার দেওয়ার মত তাদের একমাত্র ঐশ্বর্য। এ দ্বারা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা পূর্ব ও পশ্চিমব্যাপী নেতৃত্বের আসনে উন্নীত হয়।
সূরা আম্বিয়ার “একটি কিতাব...যাতে তোমাদের জন্য রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা” এই অংশের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আল সাদী লিখেছেন :
“পরবর্তীতে যা সংঘটিত হয়েছে তা এই আয়াতেরই বাস্তবায়ন। সাহাবাগণ ও তার পরবর্তী প্রজন্মসমূহের যাঁরা রাসূল (দঃ)-এঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং কুর’আন থেকে যাঁরা দিক নির্দেশনা নিয়েছিলেন - তাঁরা খ্যাতি, সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেছিলেন এবং বিভিন্ন রাজসভায় সম্মানিত হয়েছিলেন - এটা সর্বজনবিদিত। একইভাবে যারা কুর’আন নিয়ে ভাবেনি এবং তা দ্বারা পরিচালিত হয়নি বা পরিশুদ্ধ হয়নি, তাদের পরিণতিও সবার জানা আছে। তারা অসম্মান, তাচ্ছিল্য ও অসুখী জীবন যাপন করেছিল। দুনিয়া এবং আখিরাতের শান্তি অর্জন করতে এই কিতাবখানি অনুসরণ করার কোন বিকল্প নেই।”
সুখ-শান্তি ও সম্মান লাভের এই নীতিমালা সব সময়ের জন্যই প্রযোজ্য। আজো একজন বিশ্বাসী যদি সম্মানিত হতে চায়, অসম্মানজনক ও লজ্জাকর জীবন যাপন না করে যদি সম্মান ও মর্যাদা সহকারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, তবে তাকে কি করতে হবে, আল্লাহ্ তা বলে দিয়েছেন: তাদের কুর’আনের কাছে ফিরে আসতে হবে। তারা যদি কুর’আনের কাছে প্রত্যাবর্তন করে, তবে তা যে তাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের সম্মান ও মর্যাদার উৎস হবে তাই নয়, বরং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনেও তা তাদের সম্মান ও মর্যাদার উৎস হিসাবে কাজ করবে। ইসলাম সম্বন্ধে বলতে গিয়ে হযরত ওমর (রা.) বলেছেন, “আমরা ছিলাম সবচেয়ে ঘৃণিত এক জনগোষ্ঠী। আল্লাহ্ আমাদের সম্মান দেখালেন এবং ইসলামের মাধ্যমে ক্ষমতা দিলেন। আমরা যদি কখনো, আল্লাহ্ আমাদের যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন, তা ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে সম্মানিত হতে চাই, তাহলে আল্লাহ্ তখন আমাদের লাঞ্ছিত করবেন।” (আল হাকিম)। ইসলামের মতই উপরোক্ত উদ্ধৃতি কুর’আনের বেলায়ও প্রযোজ্য।
আর রাসূল (সা.) কুর’আন সম্বন্ধে বলেছেন :
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ কিছু জনগোষ্ঠীকে কুর’আন দ্বারা সম্মানিত করেন আর কিছু জনগোষ্ঠীকে তা দ্বারা অধঃপতিত করেন।” (সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থ)
আমরা এখানে যে অল্পকয়টি আয়াত আলোচনা করেছি, তা থেকে যে কেউ কুর’আনের গুরুত্বের একটা ধারণা লাভ করবেন। এটা এমন একটি কিতাব, যাতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা রয়েছে - একজন মানুষের জন্য এটা হচ্ছে রূহ্ - এটা হচ্ছে এমন এক আলো যা মানুষকে পথ দেখায় - আর সকল মুসলিমের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সম্মান, মর্যাদা ও সুখ শান্তির সার্বিক উৎস হচ্ছে এই কুর’আন।
এ ছাড়া আল ফুরক্বান (ভুল ও শুদ্ধের পার্থক্যকারী), আল যিকর (স্মরণিকা), আল বুরহান (নিশ্চিত প্রমাণ) এমন বহু ভিন্ন ভিন্ন নামে আল্লাহ্ কুর’আনকে সম্বোধন করেছেন।
কুর’আনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলো এর গুণাগুণ ও বিশেষত্ব সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান দান করে। আমাদের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এ সম্বন্ধে আমরা কুর’আন থেকে আর মাত্র দুটো উদ্ধৃতি উপস্থাপন করবো। এগুলোতে কুর’আনের বক্তা ও নাযিলকারী - যিনি একমাত্র সত্যিকার ভাবে কুর’আনকে জানেন, তিনিই কুর’আনকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যাতে এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তাকারী কারো কাছে তা অভাবনীয় মনে না হয়ে পারে না। আল্লাহ্ বলেন :
“আমরা যদি এই কুর’আনকে কোন পাহাড়ের উপর নাযিল করতাম, তবে নিশ্চয়ই তুমি দেখতে যে, ওটা আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমরা এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি মানুষের জন্য, যাতে তারা চিন্তা করে।” (সূরা হাশর, ৫৯:২৯)
আল্লাহ্ আরো বলেন :
“যদি কোন কুর’আন এমন হতো যদ্বারা পর্বতকে গতিশীল করা যেতো অথবা পৃথিবীকে বিদীর্ণ করা যেতো অথবা মৃতকে কথা বলানো যেতো [এটিই হতো সেই কুর’আন], কিন্তু সমস্ত বিষয়ই আল্লাহর আদেশের অধীন।....” (সূরা রা’দ, ১৩:৩১)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



